
স্বাস্থ্য রক্ষায় রোযার গুরুত্ব
আমরা এখন পবিত্র রমযানের শেষ তৃতীয়াংশ অর্থাৎ নাজাতের সময় পার করছি। আজকে রোযার উপকারিতা নিয়ে কিছু আলোচনা করব। মহান আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের রোযার গুরুত্ব অনুধাবন ও এর নিয়ামত পুরোপুরি অর্জন করার ব্যবস্থা করে দিন এই কামনা করি।
মুসনাদে আহমাদ, তাবরানী, আবু নায়ী’ম থেকে পাওয়া এ হাদীসে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা রোযা রাখ তাহলে সুস্বাস্থ্য লাভ করবে”।
এটি একটি ছোট হাদীস। আর এই হাদীসের আলোকে জার্মানীর এক স্বাস্থ্য ক্লিনিকের গেইটে লেখা দেখা যায় “রোযা রাখো, স্বাস্থ্যবান হবে”। এর নিচে লেখা আছে ‘মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ’। খৃস্টান ধর্মপ্রধান জার্মানীসহ অন্যান্য খৃস্টান চিকিৎসকেরাও রোযার উপকারিতার বিষয়ে বেশ কিছু গবেষণা করেছেন। বিশ্বের অনেক দেশে রোযার মাধ্যমে সুস্থ থাকার ‘চিকিৎসা ক্লিনিক’ খোলা হয়েছে। এর মধ্যে বেশি প্রসিদ্ধ হলো জার্মানীর ডাঃ হেজিগ ব্লাহমার ক্লিনিক, ডাঃ ব্রাশরাবজ ও ডাঃ ওয়ালারের ক্লিনিক।
রোযা শরীর বিজ্ঞানের সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা এবং মানব দেহের সুস্থতার মহৌষধ। রোযা মানুষের জন্য কিভাবে মুক্তি বয়ে আনে তার পূর্ণ বক্তব্য রয়েছে ‘সাওম’ শব্দটির মধ্যেই। সাওম আরবি শব্দ, যার অর্থ বিরত থাকা বা সংযম অবলম্বন করা। সংযমী ব্যক্তিদের কখনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না। তাদের মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হিমসাগর তেল ব্যবহার করতে হয় না। চোখের দৃষ্টি বাড়াতে শক্তিশালী চশমাও নিতে হয় না। সংযমী মানুষ অধিকতর সুস্থ থাকে এবং দীর্ঘজীবী হয়। পক্ষান্তরে যারা সংযমী নয় এবং ধৈর্য্য ধরতে পারে না, তারা সামান্য কথাতেই ক্রোধান্বিত হয়ে পড়ে। এতে শরীরের শিরা-উপশিরা ফুলে ওঠে এবং ক্রোধের আগুন তাদের শরীরে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। ক্রোধান্বিত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের পীড়া, পেটের পীড়া, চোখের পীড়া ইত্যাদি রোগে বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়।
রোযা দেহকে সুস্থ রাখার সর্বোত্তম ব্যবস্থা। বর্তমান যুগের চিকিৎসকরা রোযার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ঠিক থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং কোন কোন রোগের ওষুধ হিসেবে তারা মানুষকে রোযা রাখার পরামর্শও দিচ্ছেন। চর্ম রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ প্রভৃতি ব্যাধির বিপক্ষে রোযা খুবই উপকারী। মেদ ও কোলেস্টরল কমানোর ক্ষেত্রে রোযার জুড়ি নেই। যাদের শরীরে বাড়তি মেদ বা চর্বি জমেছে, তাদের রক্তে কোলেস্টরলের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রা থেকে বেড়ে যেতে পারে। ফলে হৃদপিণ্ড, ধমনী ও শরীরের অন্যান্য অত্যাবশ্যক অঙ্গে মারাত্মক রোগ দেখা দিতে পারে। উক্ত রক্তচাপ এবং বহুমূত্র রোগ অস্বভাবিক মোটা মানুষের ক্ষেত্রে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া অধিক মোটা লোকদের পিত্তথলিতে পাথর ও বাত রোগ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই রমযানের এক মাসের সিয়াম সাধনা দেহকে অস্বাভাবিক মোটা হওয়া থেকে বাধা দেয়। দেহের বাড়তি চর্বি জমা হতে দেয়া না এবং রক্তে কোলেস্টরলের পরিমাণও স্বাভাবিক রাখে। রোযা শরীরের দূষিত পদার্থ ও ভাইরাস রোগের জন্য ঝাড় স্বরূপ। রোযা মানুষকে নতুন জীবন দান করে। যখন আমরা খাওয়া বন্ধ রাখি এবং পরিপাক যন্ত্রকে বিরতি দেই, তখন দেহে সংরক্ষিত জীবনী শক্তির এক নব জীবনের উদ্ভব হয়।
রোযা প্রসঙ্গে প্রখ্যাত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ডাঃ শেলটন তার সুপিরিয়র নিউট্রিশন গ্রন্থে বলেন, উপবাসকালে শরীরের মধ্যকার প্রোটিন, ফ্যাট, শর্করা জাতীয় পদার্থসমূহ স্বয়ং পাচিত হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোষগুলোর পুষ্টি বিধান হয়। এই পদ্ধতিকে ‘অ্যাস্টোলিসিস’ বলা হয়। এর ফলে শরীরে উৎপন্ন উৎসেচকগুলো বিভিন্ন কোষে ছড়িয়ে পড়ে। আর এটি হচ্ছে শরীর বিক্রিয়ার এক স্বাভাবিক পদ্ধতি। রোযা এই পদ্ধতিকে সহজ, সাবলীল ও গতিময় করে।
১৯৬০ সালে প্রকাশিত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ‘মানব শরীরের ওপর রোযার প্রভাব শীর্ষক’ এক গবেষণামূলক তথ্য থেকে জানা যায়, রোযায় শরীরের ওজন সামান্য হ্রাস পেলেও শরীরের কোন ক্ষতি করে না বরং শরীরে মেদ কমাতে রোযা অধিক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
বিশিষ্ট স্বাস্থ্য গবেষক, ডাঃ দেওয়ান এ কে এম আব্দুর রহীম বলেছেন, অতি ভোজ ও অখাদ্য-কুখাদ্য ভক্ষণের ফলে আমাদের শরীরে যে জৈব বিষ জমা হয় তা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সারা বছর আমাদের শরীরে যে জৈব বিষ জমা হয় তা এক মাস রোযা পালনের ফলে দূরীভূত হয়।
জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ নূরুল ইসলাম বলেছেন, প্রয়োজনের তুলনায় অধিক ভোজন এবং তার ফলে দেহের যে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পায় তা একটা ব্যাধি। এতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
অধ্যক্ষ ডি এস কোড বলেছেন, রোযা হচ্ছে ইসলামের নবী-রাসূলদের নিদের্শিত ইবাদাত-বন্দেগীর মধ্যে অন্যতম। রোযা পালন আত্মশুব্ধি ও সংযমের শ্রেষ্ঠতম একটি উপায় বা পন্থা যার মাধ্যমে স্রষ্টাকে লাভ করা যায় এবং স্বাস্থ্যকে রক্ষা করা যায়।
প্রখ্যাত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ডাঃ আব্রাহাম জে হেনরী বলেছেন, রোযা হল পরম হিতৈষী ঔষধ বিশেষ। কারণ রোযা পালনের ফলে বাত রোগ, বহুমূত্র, অজীর্ণ, হৃদরোগ ও রক্তচাপজনিত ব্যাধিতে মানুষ কম আক্রান্ত হয়।
ডাঃ জুয়েলস এম ডি বলেন, যখন একবেলা খাওয়া বন্ধ থাকে তখনই দেহ সেই মুহূর্তটিকে রোগ মুক্তির সাধনায় নিয়োজিত করে। তিনি আরও বলেন, খাদ্যের পরিপাক ও আত্তীকরণে যে শক্তি ব্যয় হয়, খাওয়া বন্ধ করে আমরা যদি সেই শক্তি অন্য দিকে নিয়োজিত করি তাহলে দেহের অপ্রয়োজনীয় বিষাক্ত অংশ দূর করা সম্ভব হবে। পরিপাক প্রণালী যখন তার আত্তীকরণে বিরতি দেয় তখন পাকস্থলী ও অন্ত্রের শ্লৈষ্মিক-ঝিল্লি দেহযন্ত্র থেকে জীর্ণ পদার্থগুলিকে অপসারণ করতে পারে। অন্ত্রের ও পাকস্থলীর শ্লৈষ্মিক আবরণী খাদ্যদ্রব্য পরিপাকের ক্ষেত্রে অনেকটা স্পঞ্জের মতো কাজ করে। অধ্যশন ও অতি ভোজনের ফলে দেহের স্নায়ু কোষে বিষক্রিয়া দেখা দেয়। ফলে শরীরে নেমে আসে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বোধ ও জড়তা। রোযা এর প্রতিষেধকের কাজ করে।
তাই বোঝা গেল, রোযা দেহযন্ত্রের বিষ ধ্বংস করে এবং দেহের রোগ নিরাময়ের সংরক্ষিত শক্তির সদ্ব্যবহার করে।
প্রখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রোযা দ্বারা শরীরের মেদ কমাতে রোযা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের খাদ্যনিয়ন্ত্রণ অপেক্ষায় অধিক কার্যকর।
পাকিস্তানের প্রখ্যাত প্রবীণ চিকিৎসক ডাঃ মুহাম্মদ হোসেন জানান, যারা নিয়মিত রোযা পালনে অভ্যস্ত সাধারণত তারা বাতরোগ, বহুমূত্র, অজীর্ণ, হৃদরোগ ও রক্তচাপজনিত ব্যাধিতে কম আক্রান্ত হন।
পাশ্চাত্যের চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ ক্লাইভ বলেন, সিয়াম সাধনার বিধান স্বাস্থ্যসম্মত ও বিজ্ঞানসম্মত। সেহেতু ভারত, জাপান, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ নাইজেরিয়াতে অন্যসব এলাকার তূলনায় মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় রোগ ব্যাধি অনেক কম দেখা যায়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের পথিকৃত হিসেবে খ্যাত ডাঃ হিপোক্রেটিস অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন যে রোগাক্রন্ত দেহকে যতই পুষ্ট করার চেষ্টা করা হোক, তাতে স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকবে।
চিন্তাবিদ ডক্টর ডিউই উপবাস থাকা প্রসঙ্গে বলছেন, রোগজীর্ণ এবং রোগক্লিষ্ট মানুষটির পাকস্থলি হতে খাদ্যদ্রব্য সরিয়ে ফেল, দেখবে রুগ্ন মানুষটি উপবাস থাকছে না, সত্যিকাররূপে উপবাস থাকছে রোগটি।
রাশিয়ার অধ্যাপক ডি এন নাকিটন বলেছেন, তিনটি নিয়ম পালন করলে শরীরের বিষাক্ত দ্রব্যাদি বের হয়ে যাবে এবং বার্ধক্য থামিয়ে দেবে। তার বর্ণিত নিয়ম তিনটি হলো অধিক পরিশ্রম, অধিক ব্যায়াম, এবং মাসে কমপক্ষে একদিন উপবাস।
প্রখ্যাত মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে সিনা তার রোগীদের কখনো কখনো তিন সপ্তাহ ধরে উপবাস থাকতে নির্দেশ দিতেন।
ডাঃ অ্যালেক্স হেইগ বলেন, রোযা হতে মানুষের মানসিক শক্তি এবং বিশেষ বিশেষ অনুভূতিগুলো উপকৃত হয়।
ভেষজের জনক হিপ্লোক্র্যাটন দু’হাজার চারশ’ বছর আগে বলেছিলেন ‘খাদ্য তোমার রোগের ওষুধ’। অর্থাৎ খাদ্যকে আয়ত্ত করার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ হতে মুক্তি পাওয়া যায়। আর এই আয়ত্ত করার অন্যতম মাধ্যম হলো রোযা।
নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ওষুধ ও শল্য চিকিৎসার প্রখ্যাত ডাঃ অ্যালেকসিস বলেছেন, পুনঃ পুনঃ নিয়মিত এবং বেশি পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ এমন এক শরীর বৃত্তীয় ক্রিয়ায় বাধাদান করে যা মানব প্রজাতির উর্ধ্বতন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রোযার উপবাসের মাধ্যমে লিভার রক্ত সঞ্চালন দ্রুত হয় ফলে ত্বকের নিচে সঞ্চিত চর্বি, পেশীর প্রোটিন, গ্রন্থিসমূহ এবং লিভারের কোষসমূহ আন্দোলিত হয়। আভ্যন্তরীণ দেহ যন্ত্রগুলোর সংরক্ষণ এবং হৃদপিণ্ডের নিরাপত্তার জন্য অন্য দেহাংশগুলোর বিক্রিয়া বন্ধ রাখে। খাদ্যাভাব কিংবা আরাম-আয়েশের জন্য মানুষের শরীরের যে ক্ষতি হয়, রোযা তা পূরণ করে দেয়। এ ছাড়া মানুষের শরীরে থাকে অনেক ধরনের রোগ। এ রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রেও রোযা অনেক উপকার করে। যেমনঃ-
বহুমূত্র রোগঃ মোটা লোকের বহুমূত্র(ডায়াবেটিক)রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে রোযা খুব উপকারী। ডাক্তারী পরীক্ষায় দেখা গেছে, একাধারে ১৫ দিন রোযা রাখলে বহুমূত্র রোগের অত্যন্ত উপকার হয়। চর্বিযুক্ত বহুমূত্র রোগীকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ওজন কমাতে বলা হয়েছে। কোন ওষুধ না খেয়ে শুধুমাত্র রোযা রাখার মাধ্যমেও বহুমূত্র রোগ নিরাময় হয়।
চর্মরোগঃ রোযা চর্ম রোগের জন্য খুবই উপকারি।পুষ্টির সঙ্গে চর্মরোগের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তাই চর্ম রোগের কিংবা ত্বকের উপর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় রোযা খুবই ফলদায়ক পদ্ধতি। আধুনিক চিকিৎসকগণ এমত পোষণ করে থাকেন।
কিডনীর পাথর কণা ও চুনঃ অনেকের কিডনী সমস্যা আছে। অথবা কিডনীতে পাথর ও চুন হয়। রোযা রাখলে এ সমস্যা আরো বেড়ে যাবে বিধায় তারা রোযা রাখেন না। অথচ আধুনিক ডাক্তারগণ বলেছেন রোযা রাখলে কিডনীতে সঞ্চিত পাথর কণা ও চুন দূরীভূত হয়। রোযাদারগণ ইফতারের পরে যদি বেশী পানি পান করে তাহলে প্রস্রাবের নালি ধুয়ে পরিষ্কার হয় এবং নালি পথ প্রশস্ত হয়ে ছোট পাথর কণা নিঃসরণে সুবিধা হয়।
ধমনীতে উচ্চচাপ জনিত কষ্টঃ রোযা রাখলে শরীরের ওজন কমে। শরীরের মধ্যে যে সমস্ত লবণ প্রবেশ করে সেই লবণগুলি রক্ত চাপ বাড়ায় তাই রোযা সেই লবণের পরিমাণ কমায় ফলে হৃদপিণ্ডের উপর চাপ কম হয়। যে সমস্ত রোগী উচ্চ চাপের জন্য কষ্ট পাচ্ছেন তাদেরকে দৈনিক খাদ্যের পরিমাণ কমাতে হবে। এতে রোযার বিকল্প নেই। সুতরাং বোঝা গেল রোযা ধ্বমনিতে উচ্চচাপ জনিত কষ্ট দূর করে।
ওজন বৃদ্ধিঃ এটা কোন জটিল রোগ নয় বরং অনেক রোগের কারণ। প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য মানুষের দিনে তিন বার খাবার প্রয়োজন। বার বার খাদ্য গ্রহণ ফলে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে প্রমাণিত হয়েছে যে, অতিরিক্ত খাদ্য চর্বি হিসাবে দেহে জমা হয়, ফলে ব্যক্তির ওজন বৃদ্ধি পায়। পেশি সঞ্চালন হয় না বললে চলে। রক্তচাপ বাড়ে তাই মোটা লোকেরা ধমনীর উত্তেজনা জনিত বহু কষ্টে ভোগে। তাছাড়া ওজন বৃদ্ধি শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে, ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডকে দুর্বল করে। তাই রোযা উক্ত রোগের সর্বোত্তম প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে।
স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধিঃ স্নায়ুতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং স্মৃতি শক্তি ও একাগ্রতা বৃদ্ধি করতে রোযা বিশেষ উপকার করে। চিকিৎসকগণের মতে স্নায়ুতন্ত্রের উপর রোযার ক্রিয়া মরিচা পরিষ্কার করার জন্য লোহার ব্রাশের মত। রোযা স্নায়ুতন্ত্রে কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে, তাই রোযা অনেক মারাত্মক রোগ দূর করতে সক্ষম।
অন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগঃ রোযা হল অন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগের উত্তম নিরাময় পদ্ধতি। আমিষ ও শর্করা জাতীয় খাদ্য গেঁজে ওঠার ফলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। ফলে তার কর্মক্ষমতা কমে যায় ও খাদ্য পরিপাকে দুর্বল হয়ে পড়ে। রোযা রাখলে অন্ত্রের সঞ্চালন বিশ্রাম পায় এবং বিভিন্ন পাচক রস খুব কম নিঃসৃত হয়। এই বিশ্রামের ফলে পরবর্তীতে গ্রহণ করা খাদ্য পাচনে অন্ত্র নতুন শক্তি পায়। তাই উপরোক্ত ব্যাধি হতে রোযা দ্বারা সহজে নিরাময় পাওয়া যায়।
মেদ বৃদ্ধি জনিত রোগঃ মেদ বৃদ্ধি জনিত রোগ নিরাময়ে রোযা উত্তম চিকিৎসা। মেদ বৃদ্ধি বিশেষতঃ রক্তে কোলেষ্টল বেশী হলে হৃৎপিণ্ড ধমনীর ভেতরের নালীতে তা জমা হয়। পরবর্তীতে ধমনীটি সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং রক্ত সঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না। এ অবস্থাকে থ্রম্বসিস বলা হয়। আর এর প্রভাবে সৃষ্টি হয় হৃদরোগ। যার কারণে রোগীর হঠাৎ মৃত্যু হতে পারে। রোযা রাখার ফলে কোলেস্টেলের মাত্রা কমে আসে এবং ধমনীর ভেতরের নালী থেকে কোলেস্টেরল দূরীভূত হয় এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
কোষ্ঠকাঠিন্যঃ যারা কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে ভোগেন, রোযা তাদের জন্য খুবই উপকারী। রোযার মাধ্যমে খাদ্যাভ্যাসের নিয়ম, প্রচুর পানীয় পান, এবং ফলমূল ও সবজি ভাজি দিয়ে ইফতারি করায় সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যায়।
স্থূলকায় রোগীঃ রোযা দ্বারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয় স্থূলকায় লোকেরা। অনেক স্থূলকায় লোক শুধু ভালো ভালো খাবার পছন্দ করে, বার বার খায় এবং মনে হয় শুধু খাওয়ার জন্যই তারা বেঁচে থাকে। ফলে তাদের শরীরে চর্বি জমা হয় এবং তারা এক পর্যায়ে অস্বাভাবিক মোটা হতে থাকে। এই চর্বি যে শুধু চামড়ার নিচেই জমা হয় তা নয়, বরং চর্বি কোলেস্টরল আকারে শিরা-উপশিরা, ধমনী এবং হৃদপিণ্ডে জমা হয়। ফলে তাদের শরীরে রক্ত চলাচলে ব্যাহত হয়। এক দিকে যেমন উচ্চ রক্ত চাপের সৃষ্টি হয়, অন্য দিকে শরীরের টিসুগুলো ঠিকমত পুষ্টি পায় না, যার জন্য রোগীর ভোগান্তি চলতে থাকে। এই ধরনের লোকের জন্য রমযানের রোযা অত্যন্ত উপকারি। রোযার দিনগুলোতে বাধ্যতামূলক অনাহারের ফলে শরীরের জমানো কোলেস্টেরলগুলো শরীরের কাজে ব্যবহৃত হয়ে পরিমাণে কমে যায়। যার ফলে রক্তের সার্কুলেশন স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং এতে রোগের প্রকোপ কমে আসে। মাহে রমযানুল মোবারক এলেই অনেকে চিন্তায় পড়ে যান এই কারণে যে, রোযা রাখলে হয়ত স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাবে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে রোযায় কারো স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে গেছে বা রোযা রেখে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়ে কোনও রোযাদারের মৃত্যু হয়েছে, এমন কোন ঘটনা ঘটেছে বলে অন্ততপক্ষে জানা যায়নি। রমজান মাসের পরে দেখা যায় যে, যার যেরূপ স্বাস্থ্য ঠিক সেইরূপ আছে। এর পিছনে কারণও আছে। আসলে রোযার দিনে আমরা যে খুব একটা কম আহার করছি তা নয়, বরং কিছুটা ভালো ভালো এবং পুষ্টিকর খাদ্য খাচ্ছি। অন্য সময়ের মতো রোযার দিনে আমরা ৩ বারই আহার করি অথবা কেউ হয়ত ২ বার আহার করি। পার্থক্য শুধু সময়ের ব্যবধানে। রমজান ভিন্ন অন্য মাসে আমরা ৬ থেকে ৮ ঘন্টার ব্যবধানে খাদ্য গ্রহণ করে থাকি, যা স্বাস্থ্যসম্মত। কিন্তু রোযার সময় সাহরি থেকে ইফতারি পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান দাঁড়ায় ১৩ থেকে ১৪ ঘন্টা, যার জন্য আমাদের সাময়িক কষ্ট ভোগ করতে হয়। কিন্তু এর মধ্যে একদিকে যেমন আমরা ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করার ক্ষমতা অর্জন করি, তেমনি অর্থাভাবে, অনাহারে থেকে গরীবরা ক্ষুধার জ্বালায় কিরূপ কষ্ট পায় সেটা অনুভব করা সহজ হয়। পাশাপাশি তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করার সৎ ইচ্ছা জাগ্রত হয়। যা আমাদের উপর রোযা ফরয হওয়ার একটা বিশেষ উদ্দেশ্য। তাই আমাদেরকে রোযার উদ্দেশ্যের কথা স্মরণে রেখে যথানিয়মে মাহে রমজানের রোযাগুলো রাখতে হবে। তা না হলে পরজগতে আল্লাহর বিধান অমান্য করার অপরাধে আমাদের অপরাধী হয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে।
পূর্ণ একমাস রোযা রাখার ফলে শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো বিশ্রাম পায়। দৈনিক ১৪/১৫ ঘন্টা অভুক্ত থাকায় অন্ত্র, লিভার, প্লীহা, কিডনি ও মূত্রথলি প্রভৃতি অঙ্গসমূহ বিরাম পায়। এতে ঐ অঙ্গগুলোর ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। যাদের লিভার বড় হয়ে গেছে রোযার ফলে তাদের ঐ বর্ধিত অংশ এমনিতেই কমে আসে। কিডনি ও মূত্রথলির নানা উপসর্গ রোযার মাধ্যমে নিরাময় হয়ে যায়। রোযা রাখার ফলে জিহ্বা এবং লালা গ্রন্থিসমূহও বিশ্রাম পায়। ফলে জিহ্বা ও লালা সতেজ হয়।
রোযার বিশেষ উপকারিতা হল- রোযা মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রকে উজ্জীবিত করে। রোযা রাখার ফলে ধ্যান ধারণা স্বচ্ছ হয়। রোযা স্নায়ুবিক দৌর্বল্য ও মস্তিষ্ক অবসাদ দূর করে। ফলে সুদীর্ঘ অনুচিন্তন ও গভীর ধ্যান ধারণা করা সম্ভব হয়। রোযা মস্তিষ্ককে সর্বদা সতেজ রাখতে সাহায্য করে, মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ এবং সুক্ষ্ম অণুকোষগুলোকে জীবাণুমুক্ত করে। এর ফলে মস্তিষ্ক অধিক শক্তি ও স্নায়ুশক্তি অর্জনে সক্ষম হয়। ডাঃ এ্যালেক্স বলেন, রোযা মানুষের মানসিক শক্তি এবং বিশেষ বিশেষ অনুভূতি বৃদ্ধি করে। রোযা পালন করলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়, মনোসংযোগ ও যুক্তিশক্তি পরিবর্ধিত হয়।
রোযা চরিত্রের বুনিয়াদ সুদৃঢ় করে। রোযা মানুষকে ধৈর্যশীল ও সহিষ্ণু বানায়। রোযা পালনের ফলে মানুষের কুপ্রবৃত্তি দমন হয়। মানুষের জৈবিক চাহিদার মধ্যে দুটো জিনিস রয়েছে -একটি পশুত্ব, অপরটি মানুষ্যত্ব। পশুত্ব যেখানে মানুষকে পশুর অধম বানিয়ে তোলে, মানসিক উন্নতিই সেখানে মনুষ্যত্বের মাপকাঠি। রোযা আমাদের পশুত্ব দমন করে নফসকে সঠিক পথে পরিচালনা করে। অবাধ্য দুর্দম জন্তুগুলোকে যেমন অনাহারে রেখে বশে আনা যায়, মানুষের প্রবৃত্তিও তদ্রƒপ দুর্দম পশুরই সমতুল্য। ক্ষুধা-তৃষ্ণার জ্বালায় ফেলে তাকে বশীভূত করা যায়।
প্রতিটি রোগের পেছনে কোন না কোন কারণ থাকে। তবে জীবাণুবাহিত রোগগুলোর মধ্যে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস প্রধান। সাম্প্রতিককালে গবেষণায় দেখা গেছে, উপবাসের ফলে বহু জীবাণু মারা পড়ে। ডঃ ডিউন বলেছেন, জীর্ণ ও ক্লিষ্ট রুগ্ন মানুষটি উপোস থাকছে না, সত্যিকারভাবে উপোস থাকছে রোগটি। রোযার দিন বিকেলে কারো মেজাজ খিটখিটে হয় এবং অনেকের কাজে মন বসে না। এজন্য দোষী রোযা নয়; বরং ক্ষুধা। কারণ এসব ক্ষুধার লক্ষণমাত্রা। যাদের ক্ষুধা সহ্য করার অভ্যাস নেই তাদের মধ্যেই এই অবস্থা দেখা দেয়। যেহেতু শিশু, অতিবৃদ্ধ, অসুস্থ ও পথিক এরা ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে পারে না তাই ইসলাম এদের জন্য রোযা অত্যাবশ্যকীয় করেনি। আল্লাহ বলেন, যদি তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে, তবে সে পরে নির্দিষ্ট কয়দিন রোযা রাখবে। (বাকারাহ, আয়াতঃ ১৮৪) তবে সামান্য সর্দি কাশি জাতীয় রোগে রোযা ছেড়ে দেয়া উচিত নয়।
রোযার বিধান করা হয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য। তাই রোযার দিনে এমন কিছু গ্রহণ করা উচিত হবে না যা আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আজ আমরা খাদ্যের নামে বাজারে তৈরি এমন কিছু ইফতার সামগ্রী গ্রহণ করছি যা মোটেও স্বাস্থ্যের অনুকূল নয়। বাজারে যেসব বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ ইত্যাদি পাওয়া যায় তা বেশিরভাগই বাসি তেল দিয়ে ভাজা হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ বলেন, একই তেল বারবার উত্তপ্ত করা হলে তাতে পলিনিউক্লিয়ার হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়। এর মধ্যে থাকে বেনজোপাইরিন। যা ক্যান্সারের মতো মরণ ব্যাধির জন্ম দিয়ে থাকে। তাই বাজারে তৈরি ইফতারির ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। আল্লাহ সকলকে সিয়ামের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য, সুন্দর মন ও নতুন জীবন দান করুন।
সৈয়দ মাহবুব আলম
গবেষক, ফানার,
দোহা, কাতার।
|
|
পবিত্র কুরআন ও বিজ্ঞান
আমি বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থণা করছি। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আল্লাহ (সুবহানাল্লাহ) আমাদের জ্ঞান দান করুন। আমিন।
পর্ব -৩ আনুবীক্ষণিক প্রাণের অস্তিত্ত্ব
সূরা ইয়াসিন আয়াত ৩৬ এ বলা হয়েছেঃ “পবিত্র তিনি, যিনি যমীন থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদকে, তাদেরই মানুষকে এবং যা তারা জানেনা, তার প্রত্যেককে জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন।” (আল-কুরআন ৩৬:৩৬)
সূরা নাহল আয়াত ৮ তে আরো বলা হয়েছেঃ “তোমাদের আরোহনের জন্য এবং শোভার জন্য তিনি ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি এমন জনিস সৃষ্টি করেন, যা তোমরা জান না।” (আল-কুরআন ১৬:৮)
উপরের আয়াতগুলোতে নির্দেশ রয়েছে এমন কিছু অজ্ঞাত প্রাণের যা কুরআন অবতীর্ণ হবার সময়কার মানুষের কাছে ছিল অজানা। কার্যতঃ অনুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের পূর্বে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণী সম্পর্কে মানুষ কিছুই জানত না কারণ খালি চোখে ওই সমস্ত আনুবীক্ষণিক প্রাণের কিছুই মানুষের পক্ষে দেখা সম্ভব ছিল না। কুরআনে আরো একটি আয়াতে অদৃশ্য আনুবীক্ষণিক প্রাণের ব্যাপারে বলা হয়েছে। সূরা সাবা আয়াত ৩ এ বলা হয়েছেঃ “কাফিররা বলে, আমাদের উপর কিয়ামত আসবে না। বলুন, কেন আসবে না? আমার পালনকর্তার শপথ –আবশ্যই আসবে। তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত। নভোমণ্ডলে ও ভূ-মণ্ডলে তাঁর অগোচরে নয় অণু পরিমাণ কিছু, না তদপেক্ষা ক্ষুদ্র এবং না বৃহৎ -সমস্তই আছে সুস্পষ্ট কিতাবে।” (আল-কুরআন ৩৪:৩)
সূরা ইউনূস আয়াত ৬১ এ বলা হয়েছেঃ “বস্তুত যেকোন অবস্থাতেই তুমি থাক এবং কোরআনের যেকোন অংশ থেকেই পাঠ কর কিংবা যেকোন কাজই তোমরা কর অথচ আমি তোমাদের নিকটে উপস্থিত থাকি যখন তোমরা তাতে আত্মনিয়োগ কর। আর তোমার পরওয়ারদিগার থেকে গোপন থাকে না একটি কণাও যমীনের এবং না আসমানের। না এর চেয়ে ক্ষুদ্র কোন কিছু আছে, না বড় যা এই প্রকৃষ্ট কিতাবে নেই।” (আল-কুরআন ১০:৬১)
বিজ্ঞানের ছাত্র মাত্রই সকলের জানা যে আনুবীক্ষণিক প্রাণের অস্তিত্ত্ব জীবজগতে সংখ্যায় অগনিত। খালি চোখে দেখা না যাওয়া এই সকল প্রাণ যেমন, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র শৈবাল, পরজীবী কণাবিশেষ প্রাণীসমূহ প্রভৃতি এই পৃথিবীর ভারসাম্য বজায় রাখতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। এদের মাঝে কিছু কণিকা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী আবার কিছু আনুবীক্ষণিক প্রাণ ক্ষতির প্রধান কারণ হয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় নাইট্রোজেন-চক্রের কথা, যা এই পৃথিবীর প্রাণের অস্তিত্বে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া। উদ্ভিদের মূলের এক ধরনের ছত্রাক, যা মাটি থেকে খাদ্য শুষে নিয়ে জমিয়ে রাখতে পারে, গাছের বৃদ্ধিতে একটি উপকারী অণুজীব। আমাদের জীহ্বায় এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে যা খাদ্যের (যেমন, সালাদ, মাংস) ক্ষতিকর নাইট্রেটের বিষক্রিয়া থেকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। একই সাথে কিছু ব্যাকটেরিয়া এবং শৈবাল সালোকসংশ্লেষন ঘটিয়ে থাকে, যা এই পৃথিবীতে জীবনের খুব মৌলিক একটি ধাপ। কিছু পরজীবী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা খাদ্যের পচনকে ত্বরান্বিত করে থাকে। এতে তা অনেক উদ্ভিদের খাদ্যে পরিণত হয়। এই সমস্ত কিছুই আধুনিক যন্ত্রপাতি সহকারে পর্যবেক্ষণের পরই মানুষ প্রথম জানতে পারে। কিন্তু বহু প্রাচীন গ্রন্থ পবিত্র কুরআন এই ক্ষুদ্র প্রাণের কথা জানিয়ে দেয় তখনকার মানুষদেরকে। অজ্ঞাত এই জগৎ সম্পর্কে বিশ্বাসীরা শুধুই মনে-প্রাণে বিশ্বাস রেখেছিল। (চলবে...)
মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম উৎসঃ আন্তর্জাল কুরআনের বাংলা অনুবাদ তাফসীরে মা’আরেফুল কুরআন থেকে। |
