জাপানের ভূমিকম্প পরবর্তী তেজষ্ক্রিয়তা নিয়ে সাবধানতা
জাপানে এ বছরের মার্চ মাসে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প ও সুনামি হয়ে গেল। ভূমিকম্পের ফলে ফুমুশিমা অঞ্চলে পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বিস্ফোরিত হবার পরে উক্ত এলাকায় তেজষ্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে যার ব্যসার্ধ ক্রমাগতই অতিক্রম করতে থাকে। অনেকেই সে সময় আতঙ্কিত হয়েছিলেন যে উক্ত তেজষ্ক্রিয়তা হয়ত ২৫০ কিমি ব্যাসার্ধ অতিক্রম করে রাজধানী তোকিও শহরে এর প্রভাব ছড়াবে। প্রথমদিকে কেউ এই আশঙ্কা আমলে না নিলেও ধীরে ধীরে মানুষের মনে ভয় দেখা দিতে থাকে। বিশেষ করে যখন তোকিও শহর থেকে সব বিদেশি কূটনীতিকদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল অথচ জাপান সরকার বা এর প্রচার মাধ্যমগুলো তেজষ্ক্রিয়তার ভয়াবহতা নিয়ে তেমন কোন উচ্চবাচ্য করছিল না, মানুষের মনে এই আশঙ্কা দানা বাঁধে যে সরকার হয়ত অনেক ব্যাপার সাধারণ জনগণের কাছে পরিস্কার করছে না।
সবই কি সরকারের দোষ?
আমাদের সাধারণ জনগণকে প্রায় সময়ই দেশে বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে সরকারকে দোষ দিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তুলতে দেখা যায়।কিন্তু সেই সমস্যা সমাধানে নিজেদের ততটা সচেষ্ট হতে দেখা যায় না। অল্প কিছু উদাহরণ তুলে ধরছি। ১. ঢাকা শহরের কোন এক এলাকায় এক বাসস্টান্ডে মিনিবাস দাঁড়িয়ে আছে। যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে যাবে। সেখান থেকে ছাড়ার পরে পরবর্তী স্ট্যান্ড আসার আগেই রাস্তার মাঝ থেকে আরেক যাত্রী হাত তুলে দাঁড়াতে বল্ল। অমনি বাসটা রাস্তার মাঝখানেই দাঁড়িয়ে গেল। পেছনে কেউ আছে কিনা তার তোয়াক্কা পর্যন্ত করল না। আর যিনি থামাতে বলেছিলেন তিনি রাস্তার ওইপার থেকে পার হয়ে বাসে উঠলেন। এদিকে পেছন থেকে অন্যান্য যানবাহন পড়ে থাকল আটকে। হর্ণের পর হর্ণ বেজেই চলেছে।
দোলাচলে বাঁধি বুক
দেশে এখন বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। সেই সাথে চলছে গ্রীষ্ম আর বর্ষাকালীন ফল আম, কাঠাল, তাল, জামরুল, কালজাম, লটকন, আমলকি, কামরাঙ্গা, আমড়া, পেয়ারা খাবার ধুম। বিবিধ ফলের স্বাদ আর তার রস আস্বাদন করার জন্য উপযুক্ত সময় এখন।
জাপানেও অনেক ফল পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের দেশের মত এত স্বাদের ভিন্নতা নিয়ে এত ফল সেখানে নেই বল্লেই চলে। জাপানে একমাত্র দক্ষিণাঞ্চল কিউসু আর ওকিনাওয়া দ্বীপে আমের ফলন হয়। সেখানে আম ফলানো এতই খরচের যে একটা ভাল আমের দাম পড়ে ১০ হাজার ইয়েন বা বাংলাদেশি টাকায় এখন প্রায় ৯ হাজার টাকার ওপরে। ওখানে কাঠাল হয় না। যদিও ডরিয়ান নামে কাঠালের মত দেখতে এক ধরনের ফল পাওয়া যায়। আমড়া, কামরাঙ্গা, তাল, লটকন, আমলকি সেখানে পাওয়া যায় না, অথবা পাওয়া গেলেও চোখে পড়েনি কখনও। তবে চেইন শপ গুলোয় প্যাকেটে ভরা শুকনো পেয়ারা, শুকনো আম সহ হরেক রকম শুকনো ফলের প্যাকেট পাওয়া যায়। প্যাকেট পরীক্ষা করলে জানা যায় যে ওই ফলগুলো এসেছে বিদেশ থেকে, বিশেষ করে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন বা তাইওয়ান থেকে। সবচেয়ে বেশি এই ব্যবসায় ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে থাইল্যান্ড। তারা সরকারিভাবে উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রক্রিয়াজাত খাবার বা প্রসেসড ফুড রফতানি করছে।
তাহলে কি ভুল শিখলাম!
অর্থনীতি নিয়ে লেখাপড়া করিনি। তবে লেখাপড়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকার কারণে কখনো কখনো অর্থনীতি নিয়ে দুএকটা কথা শুনতে হয়েছে। খুব ভাল বুঝিনা এখনো। তাই লেখায় ভুল থাকলেও থাকতে পারে। পাঠকরা তা নিজগুনে মার্জনা করবেন।
ডিমান্ড-সাপ্লাই কার্ভ বা চাহিদা-সরবরাহ লেখচিত্র নিয়ে যা শুনেছিলাম তা হল যে কোন জিনিসের চাহিদা যদি বাড়ে অথচ সরবরাহ যদি সেই অনুপাতে না থাকে তাহলে সেই জিনিসের দাম বাড়বে আর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ যথাযথ থাকলে দাম বাড়বে না। উল্টো দিক দিয়ে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকলে সেই জিনিসের দাম বাজারে কমে যাবে। এই সূত্রের সাথে মিল রেখে পৃথিবীর সব দেশেই জিনিসপত্রের দাম বাড়তে বা কমতে দেখা গেছে। এমনকি চাহিদার তুলনায় সরবরাহ যখন সঙ্কটাপন্ন, তখন সমাজে বিশৃঙ্খলা যে দেখা দিতে পারে তার প্রমাণও আছে ভুরি ভুরি।
দূর্নীতির হালচাল
বাস চলছে বেগম রোকেয়া সরণী দিয়ে মিরপুরের দিকে। আগারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের কাছে থামার পয়েন্ট থাকলেও কোন যাত্রী নামবে না বা উঠবেও না বিধায় খুব সামান্য থেমে চলতে শুরু করেছে। হঠাৎ করেই বাম পাশে শেরে বাংলা সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্ররা (সকলের পরনে স্কুল ড্রেস পিঠে ব্যাগ এবং বুক পকেটে স্কুলের মনোগ্রাম) বাসে ঢিল মারা শুরু করল। কিছু ছেলে বাসের ডান দিকে দৌড়ে সেখান থেকেও ঢিল মারতে লাগল। অনেকগুলো কাঁচ ভাঙল। ভেতরে ৩ জন যাত্রীর কপাল ও মাথা কাটল ভাঙা কাঁচের টুকরো দিয়ে। একজন ছাত্র ভেতরে ঢুকে বাস বন্ধ করে চাবিটা নিয়ে চলে গেল। বাস ড্রাইভার ও কন্ডাক্টর এর পরে হয়ে গেল হাওয়া। কারো খোঁজ নেই। যাত্রীরা মহাবিরক্ত। কেউ কেউ ছাত্রদের এহেন কার্যকলাপে ক্ষুব্ধ। কয়েকজন বাস থেকে নেমে ছাত্রদের ধরার জন্য তাড়া করল। কিন্তু করলে কি? ছাত্ররা দিল দৌড়। যারা চুপচাপ দাড়িয়ে ছিল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে বলল তারা শুধু দর্শক হিসেবে ঘটনা দেখেছে কিন্তু তাদের কেউ এ কাজ করেনি।
